
টা টু
বিপুল দাস
তাতু সব সাবজেক্টে ফেল।
বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞানে বারো চোদ্দ, সতেরো – এরকম তার নম্বর।
কিন্তু অঙ্কে আশি। মাস্টারমশাইরা আর অবাক হন না। বরাবর তাই হয়। ওভাবেই সে ক্লাস
এইটে উঠে পড়েছে। অঙ্ক ছাড়া আর কোনো বিষয়েই তার কোনো আগ্রহ নেই। ক্লাসে বিমর্ষ হয়ে
বসে থাকে। কোনো স্যার তাকে বিরক্ত করেন না, সেও কোনো স্যারকে বিরক্ত করে না। শুধু অঙ্কের
বাঘা স্যার সুহৃদবাবু ক্লাসে এলে সে চনমন করে ওঠে। যেন তার নতুন রক্তপ্রবাহ বইতে
শুরু করে। শরীরে বিদ্যুত্তরঙ্গ খেলে যায়। অঙ্কের স্যার কেমন করে চৌকিদার আর চোরের
গতিবেগের অনুপাত বের করে ফেলেন, কীভাবে প্রমাণ হয়ে যায় ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি
আসলে দুই সমকোণ, চৌবাচ্চায় জল ঢোকার আর বেরোনোর হিসেব কেমন করে স্যার বের করে
ফেলেন – মুগ্ধ বিস্ময়ে তাতু সেটাই লক্ষ করে আর শিহরিত হয়। অঙ্কগুলো যেন এক একটা
রহস্য, কিন্তু স্যারের কাছে ছাড়ান নেই। গলিঘুঁজি বেয়ে বেয়ে স্যার ঠিক কান ধরে
উত্তরটা খুঁজে আনেন। সমাধান হয়ে যায় একটি জটিল দ্বিঘাত সমীকরণের। স্যারও তেমনি।
বোর্ডে কঠিন অঙ্ক দিয়ে ক্লাসের ফার্স্ট বয় তমালকেও নয়, তাতুকেই বোর্ডে ডেকে কষে
দিতে বলবেন। তারপর নিশ্চিন্তে চেয়ারে গিয়ে বসবেন। জানা
কথাই তাতু এখনই আঁক কষে সঠিক উত্তর বের করে আনবে, সব ছেলেও তাই জানে। ওর
মাথায় যে কী আছে – ভগবান জানেন। অন্য ক্লাসগুলোয় সে যেন নির্জীব একটা মরামানুষ।
বাংলা কবিতা, ইংরেজি ট্রান্সলেশন, সিপাহি বিদ্রোহ, জোয়ারভাটার কারণ – তার কোনো
সাড়াশব্দ থাকে না। মরা মাছের মতো তার চোখে কোনো অভিব্যক্তি ফোটে না। নির্বিকল্প
সমাধি অবস্থায় পিরিয়ড কাটিয়ে দেয়। স্যারেরা তার এই ভাব সমাধি বিলক্ষণ চেনেন।
ভাঙানোর কোনো চেষ্টা করেন না। কানাঘুষো শোনা যায় তার ক্লাস এইটে উঠে পড়ার পেছনে অঙ্কের
স্যার সুহৃদবাবুর গোপন হাত আছে।
একবার জীবনবিজ্ঞানের নতুন
স্যার বুঝতে না পেরে তাতুকে জিজ্ঞেস করে বসলেন – কয়েকটা অমেরুদণ্ডী প্রাণীর উদাহরণ
দে তো। নতুন স্যার জানতেন না তাতু মজুমদার অঙ্ক ছাড়া অন্য সব বিষয়ে অস্পৃশ্য
প্রাণী। তাতু নিজে তো বটেই, ক্লাসের অন্য ছেলেরাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। এরকম
দৃশ্য তাদের কাছে অদৃষ্টপূর্ব। নতুন স্যারের এত সাহস, এত বুকের পাটা তাতুকে প্রশ্ন
জিজ্ঞেস করেন। উনি কি স্কুলের অলিখিত নিয়ম জানেন না। অঙ্ক ছাড়া অন্য বিষয়ে তাতুকে
বিরক্ত করা শক মানা হ্যায়। নিষিদ্ধ ব্যাপার।
তাতু বিস্মিত হয়ে কিছুক্ষণ
চোখ পিটপিট করল। এরকম দ’এ এর আগে কোনোদিন সে পড়েনি। আশপাশের বন্ধুদের দিকে তাকাল।
সবাই গম্ভীর। স্যারও যেন নাছোড়বান্দার মতো তার দিকেই তাকিয়ে আছেন। তাতুর
একবার ইচ্ছে হল সেও উলটো তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্কটা স্যারকে জিজ্ঞেস করে। যে অঙ্কটা
ক্লাসের মধ্যে সে সবার আগে করে খাতা জমা দিয়েছিল। সুহৃদবাবু তার মাথায় সস্নেহে হাত
বুলিয়ে সেই হাত আবার নিজের মাথায় বুলিয়ে নিয়েছিলেন। অনেকটা তেল তাতুর মাথা থেকে
তাঁর মাথায় ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছিল।
এই স্যার একটা লিকলিকে বেত
নিয়ে ক্লাসে এসেছেন। কে জানে কোথায় পেলেন বেত। এসব তো কবেই নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।
বোধহয় বাড়ি থেকেই এনেছেন। খালি হাতে প্রথম দিন ক্লাসে আসতে হয়তো ভরসা পাননি।
আক্রমণ নয়, প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই মনে হয়। তার সামনে এসে নতুন স্যার দু-বার
লিকলিকে বেত নাচালেন। বল, কয়েকটা অমেরুদণ্ডী প্রাণীর নাম বল। অসহায় তাতু দেখল সে
ফাঁদে পড়ে গেছে। কিন্তু ভয় পেলে তো চলবে না। কিছু একটা উত্তর দিতেই হবে, নইলে এই
লোকটা আশকারা পেয়ে যাবে। আক্রমণ বাড়িয়েই যাবে।
“স্যার, অমেরুদণ্ডী প্রাণীর উদাহরণ
উচ্ছে, বেগুন, পটল, মুলো।”
স্যারসহ পুরো ক্লাস হো হো করে
হেসে ফেলেছে। চোখকানমুখ অপমানে লাল হয়ে উঠল তাতুর। ‘বদলা’ – তার বুকের ভেতরে সুপ্ত
সিংহ গর্জন করে উঠল। এই অপমানের শোধ সে ঠিক নেবে।
“বাকিটাও বলে ফেল, বেতের বোনা
ধামাকুলো। কী করে এইটে উঠেছিস বল তো? আজ যে পড়া দেব, কাল যদি উত্তর দিতে না
পারিস...।”
তবে কিনা নতুন স্যারকে বোধহয়
অন্যান্য স্যারেরা সমঝে দিয়েছেন যে, অঙ্ক ছাড়া অন্য বিষয়ে তাতু অস্পৃশ্য। তারপর
থেকে নতুন স্যার আর তাকে বিরক্ত করেননি। কিন্তু মাঝে মাঝে তার দিকে অদ্ভুত
দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। তাতুর খুব অস্বস্তি হয়। চোখ সরিয়ে বাইরে তাকায়। ইলেকট্রিকের
খুঁটির উচ্চতা কত হতে পারে, তার ছায়ার দৈর্ঘ্য কত হতে পারে এবং খুঁটির শীর্ষবিন্দু
থেকে ছায়ার শীর্ষবিন্দুর দূরত্ব কত হতে পারে, সেই হিসেবে মগ্ন হয়ে পড়ে।
আজকাল আবার তার নতুন শখ হয়েছে
সন্ধের পর মনসাতলার মাঠে গিয়ে বসে থাকে। প্রকৃতির রাজ্যে গাছপালা, কীটপতঙ্গ নিয়ে
গভীর ভাবনা ভাবে। সেদিনও সে নির্জন মন্দিরের পাশে তেপান্তরের মাঠের মতো
দিগন্তবিস্তৃত খোলা জায়গায় বসে ছিল। হঠাৎ তার কানে একটা গুনগুন সুর কানে এল। মনে
হচ্ছে একঝাঁক মৌমাছি এদিকেই আসছে। সর্বনাশ, মৌমাছিকে তার বড়ো ভয়। ছোটোবেলায় একবার
গাছে উঠে আম পাড়তে গিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছির আক্রমণের শিকার হয়েছিল। মুখচোখ ফুলে
ঢোল, সমস্ত শরীরে যেন আগুনের স্রোত। মরতে মরতে বেঁচেছিল সেবার। প্রবল জ্বরের তাড়সে
অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকেই মৌমাছিকে তার বড়ো ভয়। কিন্তু এখানে কীভাবে একপাল
মৌমাছি আসবে? আশেপাশে নিশ্চয় কোনো বড়ো গাছ আছে। হয়তো ওদের কেউ বিরক্ত করে পালিয়ে
গেছে, কেউ হয়তো মৌচাক কাটার জন্য ওদের উড়িয়ে দিয়েছে। আর ওরা ক্রুদ্ধ গর্জনে ছুটে
আসছে সামনে যে আছে তার দিকে। দৌড়ে পালাবে বলে উঠে দাঁড়াতেই টের পেল তার মাথায় ঠিক
ব্রহ্মতালুর ওপর কী যেন ফুটল। সামান্য চিনচিন ব্যথা করে উঠল। ব্যস, আর কিছু নয়। একটু
বাদেই তার মনে হল শরীরটা বেশ হালকা লাগছে। মনে হচ্ছে লাফ দিলেই মাটির আকর্ষণ
ছাড়িয়ে সে অনেকটা ওপরে উঠে যেতে পারবে।
“তাতু, আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?
ভয় পেয়ো না, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না। তোমার শত্রু নই আমি।”
তাজ্জব হয়ে গেল তাতু। আশেপাশে
কোথাও কেউ নেই, তবে কে কথা বলল? আর ঠিক কান দিয়ে নয়, সে যেন কথাগুলো সোজা মাথার
ভেতরে শুনতে পেল। মৌমাছির দলই বা কোথায় গেল? তাদের ভেতর থেকে একটা এসে কী তার
মাথায় হুল ফুটিয়ে দিয়ে গেল? কিছুই বুঝতে পারল না তাতু।
“হ্যাঁ তাতু, তুমি ঠিকই
শুনেছ। তবে কান দিয়ে নয়। ওটা আমাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ। আমি সরাসরি তোমার
ভাবনার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সঙ্গে আমার তরঙ্গ মিলিয়ে নিয়ে তোমার কাছে কথাগুলো পাঠাচ্ছি।
তোমার শরীরে আমি একরকম রাসায়নিক মিশিয়ে দিয়েছি। নইলে আগের তোমার সঙ্গে আমি যোগাযোগ
করতে পারতাম না। এখন তোমার ভেতর দিয়েই আমি তোমাদের ভাষা, তোমাদের সমাজের রীতিনীতি
সব বুঝে নিয়েছি।”
“তুমি কে?” অস্ফুটে ঠোঁট নড়ল
তাতুর।
“তোমাদের হিসেবে আলোকবর্ষের
যে মাপ, সেই মাপে, সেই দৈর্ঘ্যের এককে আমরা অনেক দূরের একটা ছায়াপথ থেকে এসেছি।
তোমাদের যেমন সূর্যই কেন্দ্রে, তার চারপাশে তোমাদের এই সবুজ গ্রহ ঘুরছে, আমাদের
সূর্যের নাম আমাদের ভাষায় ক্রোনো। তার চারপাশেও গ্রহ আছে। তেমনি একটি গ্রহ থেকে
আমরা প্রায় আলোর গতিতেই একশ বছরের পথ পার হয়ে এসেছি, কিন্তু সেই হিসেবে আমাদের বয়স
তেমন বাড়েনি। গতির জন্য আমাদের সময় সঙ্কোচন হয়েছে। তোমার তো অঙ্কে মাথা ভালো,
বিজ্ঞানও জানো। সুতরাং ব্যাপারটা নিশ্চয় বুঝতে পারছ।”
“আমার মাথায়...”
“বলতে হবে না। এত পরিশ্রম করো
কেন তোমরা? তোমার ভাবনার তরঙ্গ আমি পড়তে পারছি। যা ভাবছ, বুঝে নিচ্ছি। এখন ভাবছ
মনে মনে অন্যায় কিছু ভাবলে, অন্যের ক্ষতি চাইলে, লোভ বা তোমাদের হিসেবে পাপের কথা
ভাবলে তো অন্যরা বুঝে ফেলবে। তা হয় না আমাদের। তোমার চিন্তাতরঙ্গে ডুব দিয়ে আমি
তোমাদের ক্ষতি, অন্যায়, লোভ, পাপ বুঝতে পারলাম। এগুলোর অর্থ কী? আমাদের গ্রহে এ
শব্দগুলো অর্থাৎ ভাবনাগুলোই নেই। সুতরাং অন্যের বুঝে ফেলার কোনো আশঙ্কা নেই।”
“কেন এসেছেন আমাদের কাছে?
আমার মাথাতেই কেন হুল ফুটিয়ে দিলেন?”
“আমরা ছড়িয়ে পড়েছি তোমাদের
গ্রহজুড়ে। আমাদের ভাবনার তরঙ্গ ছুটে যাচ্ছে পাহাড়ে, সমুদ্রে, মরুভূমিতে, অরণ্যে,
লোকালয়ে। হঠাৎ কখনও তরঙ্গ মিলে যাচ্ছে কারও ভাবনার সঙ্গে। তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছি
মুহূর্তে। তার মাথায় নির্দিষ্ট রাসায়নিক ঢুকিয়ে দিচ্ছি। তার শরীরমনের সব তথ্য এক
নিমেষে আমাদের আয়ত্তে এসে যাচ্ছে। এভাবেই আমাদের দল এই গ্রহের সব তথ্য সংগ্রহ করে
নিচ্ছে। বিশাল এক তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছি আমরা। শুধু এই গ্রহের নয়, মহাবিশ্বের সব
জায়গায় আমরা পৌঁছোনোর চেষ্টা করছি। আসলে, প্রাণ আছে তেমন গ্রহ আমরা খুঁজে
বেড়াচ্ছি।”
এখন আর তাতু মুখ ফুটে কিছু
বলছিল না। তার ভাবনার তরঙ্গ মুহূর্তেই মৌমাছির কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল। সেভাবেই
যোগাযোগ হচ্ছিল। বুঝতে পারছিল সত্যি, কথা বলা বৃথা। ভাবনাতেই কাজ চলে যাচ্ছে।
কিন্তু এরা কেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে? তথ্য নিয়ে কী করবে?
“ভাবছ আমরা এসব কেন করছি?
সবুজ গ্রহ দেখে আমরা খুব আগ্রহ নিয়ে ছুটে এসেছিলাম। অগুন্তি, তোমাদের গ্রহের একতা
শৃঙ্খলাপরায়ণ পতঙ্গের চেহারা নিয়েছি। মৌমাছি দেখলে সেটা সবার কাছে স্বাভাবিক।
মৌমাছি সব জায়গায় উড়ে বেড়াতেই পারে। পরে জানলাম এটাকে তোমরা মৌমাছি বলো। আগ্রহ
নিয়ে এখানে এসেছিলাম বটে, কিন্তু দেখলাম তোমরা আর বেশিদিন এখানে থাকতে পারবে না।
তোমরা নিজেরাই সব ধ্বংস করে দিচ্ছ। তোমাদের এই মানুষ নামের প্রজাতি আর বেশিদিন এই
গ্রহে থাকতে পারবে না। প্রয়োজন নেই, এমন জিনিস নিয়ে তোমরা বড়ো সময় নষ্ট করো। তোমরা
গান গাও, ছবি আঁকো, কী সব ছাইভস্ম লিখে খাতার পাতা ভর্তি করো। শুধু শুধু সময় নষ্ট,
কিন্তু শরীরে রোগের বীজাণু ঢুকলে তাকে হারাতে পারো না। নিজেরাই বেশির ভাগ সময় হেরে
যাও। তোমাদের এই গ্রহের সভ্যতার ইতিহাস আমরা জেনে নিয়েছি। সব ভাষা শিখে নিয়েছি।
সমস্ত মারণ রোগের প্রতিরোধ জেনে গেছি। শুধু অঙ্ক আর বিজ্ঞান চর্চা ছাড়া আর সব
বৃথা। তোমাকে আমরা বেছে নিয়েছি এই তত্ত্বের প্রচারক হিসেবে। তোমার কোনো ভয় নেই, আমরা
তোমাকে তৈরি করে দেব। কীভাবে তুমি প্রচার করবে, কোথায় কোথায় যাবে, কী বলবে – সব
দায়িত্ব আমাদের। তুমি হবে এই গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ, সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। রাজি
আছ?”
“তার বদলে আমাকে ভুলে যেতে
হবে গানের কথা, ছবির কথা, গল্পকবিতার কথা। রবিঠাকুরের কবিতার কোনো মূল্য থাকবে
না?”
“না। বেঁচে থাকার জন্য এসবের
কোনো মূল্য নেই।”
“শিশুদের হাসি, পাখির গান,
ভোরবেলায় সূর্য ওঠার দৃশ্য, মায়া মমতা ভালোবাসা?”
“সব ভুলে যাবে তুমি। ওগুলোর
অসারত্ব প্রচার করবে। সেসব আমরা শিখিয়ে দেব। বলো, রাজি থাকলে তুমিই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে
বড়ো বিজ্ঞানী, শ্রেষ্ঠ অঙ্কবিদ। আমরা কিন্তু অনেক পরীক্ষা করে তোমাকেই বেছেছি।
তুমি অঙ্কের দর্শন বুঝতে শিখেছ। অসম্ভব যুক্তিশীল তোমার চিন্তাভাবনা।”
“না, দরকার নেই আমার পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠ অঙ্কবিদ হওয়ার, বড়ো বিজ্ঞানী হওয়ার। আমার এক বছরের ছোটো ভাই যখন হাসে, আমি
অবাক হয়ে দেখি। আমার পাখির গান শুনতে ভালো লাগে। আমি আমার মাকে ভালোবাসি। এসব তো
কোনো পিথাগোরাসের উপপাদ্য দিয়ে প্রমাণ করা যায় না। ওগুলো বীজগণিতের অজানা রাশির মতো। আছে
তবু নেই। আমি পারব না।”
তাতু দেখল ভোঁ করে মৌমাছিটা
উড়ে যাচ্ছে। তার শরীরের হালকা ভাবটা কেটে গিয়ে আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে
যাচ্ছে। মনসাতলার মাঠে কোথাও কোনো গাছে একটা রাতচরা পাখি ডেকে উঠল – টা টু টা
টু...।
----------
ছবি - নচিকেতা মাহাত
বেশ মিষ্টি, শিক্ষণীয় একটা গল্প। খালি শেষে তাতুর অন্য সাবজেক্টের প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহ ফিরলো, এই ধরণের কিছু পাওয়া গেলে আরো ভালো হতো। তাতুর অন্য বিষয়ে অস্পৃশ্য থাকার ব্যাপারটা স্কুলের সবাই সহজেই মেনে নিয়েছে এটাও একটু অদ্ভুত লাগলো। তবে সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য।
ReplyDelete