
চিরকালের কথা ও কাহিনি
হরিণের বন্ধুরা
সঞ্জয় কর্মকার
গভীর
বনে থাকত হরিণ শোনাচ্ছি যার কথা
দিব্যি
ছিল সুখে, হঠাৎ
পায়ে হল ব্যথা।
যুবা-কালের ছোটার শক্তি কে নিয়েছে কেড়ে?
হরিণ
বুঝতে পারল যে তার বয়স গেছে বেড়ে।
বৃদ্ধকালে
হাঁটাচলাও সহজ কথা নয়
কেমন
করে বাঁচবে তবে— মনে হল ভয়!
হরিণ
ছিল মিশুকে খুব, সবাই বন্ধু তার
তাদের
মধ্যে কেউ বা বলে, “ব্যায়ামটি
দরকার।”
আর
এক বন্ধু বলল, “ওরে বাঁচতে যদি চাস
সকাল-বিকাল দুই বেলাতেই পেটপুরে
খাবি ঘাস।
খাওয়ার
সঙ্গে বিশ্রাম চাই, তাই
তো সারা রাত
গভীর
ঘুমে কাটিয়ে দিবি, কারণ
এটা বাত!”
হরিণ
বলে, “খাবটা কী? চলাই যে দায় হল
দুই
বেলা ঘাস কোথায় পাব এবার তোমরা বলো।
পেটে
খাবার গেলেই ঘুম আসবে আপনা থেকে
চারণভূমি
একটা কোনো দাও গো তোমরা দেখে।
চলার
শক্তি গেছে চলে এ আমি ঠিক জানি
দু-গাছি
ঘাস পেটে দিয়ে বাকি জীবনখানি
কাটে
যদি সেই তো অনেক। আমার কথা শোনো
আমার
বাসার চারিধারে ঘাস নেইকো কোনো!”
অনেক
দূরের চারণভূমির সন্ধান দেয় তারা
পৌঁছোনো
নয় সহজ সেথায় সুস্থ সবল ছাড়া,
হরিণ
তো তাই ব্যথা পায়ে করে নাকো চেষ্টা
ছোট্ট
একটা চারণভূমি খুঁজে পেল শেষটা।
ছোটো
বলেই খুব বেশি নয় ঘাসের পরিমাণ,
হরিণ
মনে ভাবল, “তা হোক, এখন বাঁচুক প্রাণ।”
বন্ধুরা
সব সকাল-বিকেল করতে আসে দেখা,
সবাই
ভাবে, “বন্ধু আমার হয়ে গেছে একা,
যাই; সেখানে বন্ধুটাকে একটু দেখে আসি
এই
বিপদে বন্ধু হরিণ আমারই প্রত্যাশী।”
দলে
দলে হরিণ সেথায় দেখা করতে আসে
সুখ
দুঃখের কথার সাথে মুখ দেয় তারা ঘাসে
ঘাস
যা ছিল দ্রুতবেগেই শেষ হয় একদিন,
পায়ের
ব্যথায় হরিণ তখন চলৎশক্তিহীন।
ঘাস
ফুরোলে বন্ধুরা আর কেউ আসে না পরে
পায়ের
ব্যথায় নয়কো, হরিণ পেটের জ্বালায় মরে!
----------
ছবি - মেটা এআই
No comments:
Post a Comment