ম্যাজিক পেনসিল: গল্প:: হঠাৎ ঘুমের ঘোরে - অদ্রিজা মণ্ডল

হঠাৎ ঘুমের ঘোরে
অদ্রিজা মণ্ডল
অষ্টম শ্রেণি, সেন্ট মেরিজ কনভেন্ট স্কুল

[১]

পরীক্ষা শেষশেষ উত্তরটা লিখে টুনটুনি যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলতারপর খাতাটা একবার উলটেপালটে দেখে নিলযাক, সবই ঠিক আছেসবশেষে খাতার ওপর নিজের নামটা লিখল ‘চন্দ্রিমা ঘোষাল’তারপর হলের চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলতখন চড়ুই মন দিয়ে খাতা দেখছে, শালিক গালে হাত দিয়ে বসে বসে পেন নিয়ে নাড়াচাড়া করছে, আর ময়না তখনও লিখে যাচ্ছেটুনটুনি তাদের ডাকতে গিয়ে নিজেকে সংবরণ করে ভাবল যে পরীক্ষার কথা পরেও বলা যাবে
টুনটুনির ভালো নাম চন্দ্রিমা ঘোষাল, চড়ুই হল নীহারিকা চৌধুরী, শালিকের ভালো নাম মোহিনী সিংহ, আর ময়না হল রূপসা মুখার্জিপাখির নামে ডাকনাম বলে ডাকসাইটে এদের পাখির দল বলেএরা লেক গার্ডেনসে গার্ডেন হাই স্কুলে ইলেভেনে পড়ে
টুনটুনি তার বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এল তাদের বাড়ি খুব কাছে, হেঁটে যাওয়া যায়, যদিও চারজনে চার জায়গায় থাকেফুটপাথের একধারে দাঁড়িয়ে টুনটুনি জিজ্ঞাসা করল, “কী রে, পরীক্ষা কেমন হল?”
চড়ুই বলল, “খুব সহজ ছিল।” শালিক মুখ ব্যাজার করে দাঁড়িয়ে ছিল, বলল, “বিচ্ছিরি হয়েছেএত্ত বাজে পেপার কে বানাল?” চড়ুই রেগেমেগে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, টুনটুনি তাকে থামিয়ে দিয়ে ময়নাকে জিজ্ঞাসা করল, “তোর কেমন হল?” ময়না বলল, “দিব্য হয়েছে।” শালিক খ্যাঁক করে উঠল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, তোর তো দিব্য হবেই!” ময়না চোখ রাঙিয়ে বলল, “এই, বেশি গিন্নিপনা দেখাতে আসবি না!” চড়ুই এতক্ষণ রাগে ফুঁসছিল, এবার ফোড়ন কাটল, “মহারানির মাথায় মনে হয় বরফ-গলা জল ঢালতে হবে!” এতে সবাই হেসে উঠলটুনটুনি নিজের ঘড়ির দিকে চেয়ে বলল, “নে, এবার বাড়ি যাইপরীক্ষার পর ছুটি কাটাতে হবে না?” তারা নিজেদের বাড়ির দিকে পা বাড়াল যাওয়ার আগে ময়না বলল, “বিকেলবেলা আমরা একটু ঘুরতে যাব সবাই তৈরি থাকিস!”
টুনটুনি বাড়িতে ঢুকে নিজের ঘরে গিয়ে জামাকাপড় বদলে বিছানায় বসে পড়লতখনই ঘটল ঘটনাটা
টুনটুনি একবার থরমুভিতে দেখেছিল যে একটা পোর্টাল থর, লোকি, সিফ ও তার তিন সহচরকে টেনে নিয়ে এক অজানা দেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলসে কোনোদিন ভাবতে পারেনি যে তা সত্যি সত্যি ঘটবে তার সঙ্গে, আর একটু অন্যরকমভাবে
গোটা ঘর আলোয় আলোময় হয়ে গেল যখন সেই আলো মিলিয়ে গেল, ঘরের সবকিছু ঠিক যেমনটি ছিল, তেমনই আছে, শুধু টুনটুনি নেই

[২]

যখন টুনটুনির জ্ঞান ফিরল, তখন সে দেখতে পেল, একটা অন্ধকার জায়গায় সে পড়ে আছে উঠে বসে এদিক-সেদিক তাকিয়ে লক্ষ করল, সে একটা মাঠে রয়েছে চারপাশে বেশ কয়েকটা ছোটো ছোটো বাড়ি দেখা যাচ্ছে টুনটুনি উঠে বাড়িগুলোর কাছে গিয়ে একটার দরজায় টোকা মারল
দরজা খুলে একজন যুবতী তাকে মারাঠিতে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কোথা থেকে আসছ?”
টুনটুনির মায়ের এক মারাঠা বন্ধু ছিল তার কাছে টুনটুনি মারাঠি শিখেছিল তাই সে ভাঙা ভাঙা মারাঠিতে বলল যে সে বঙ্গবাসী ও এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঘুরতে এসে হারিয়ে গেছে এই কথা বলার সময়ে নিজের লম্বা কোটখানা ভালো করে গায়ে জড়িয়ে নিল যুবতীটি কার সঙ্গে যেন কথা বলে নিল তারপর তাকে বাড়িতে ডেকে নিল
ছোট্ট, ছিমছাম দুটো ঘর তারই একটায় সে থাকতে পেল ঘরে ঢুকে মেঝেতে পাতা মাদুরের উপর সোজা শুয়ে পড়ে ভাবল, সকালে উঠে ভাবা যাবে কী করে ফেরা যায়
কিন্তু অনেক রাত্রে চিত্‍কার কানে আসতেই টুনটুনির ঘুম ভেঙে গেল নিশ্চয়ই কিছু একটা খারাপ চলছে যে মহিলাটি তাকে থাকতে দিয়েছিলেন, তিনি এসে বললেন, “ঔরঙ্গজেব এসেছে! নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা হয়েছে” টুনটুনির মনে হল, তার মাথাটা যেন ওলটপালট হয়ে গেছে ঔরঙ্গজেব এখন ইতিহাস হয়ে গেছে! তবে নিশ্চয়ই ঔরঙ্গজেব এখনকার সময়কালে চলে এসেছেন বা সে নিজেই তাঁর সময়কালে চলে এসেছে কথাটা ভাবতেই গোটা গায়ে সে একটা শিরশিরানি ভাব বোধ করল কী করা যায়? মা-বাবা কী পুলিশে খবর দিল? বন্ধুরা কী জানতে পেরেছে? এবার সে ফিরবে কী করে?
সে ঘরে কাউকে না দেখে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়ল তারপর অন্ধকারের সঙ্গে মিশে মিশে এক জায়গায় পৌঁছে যা দেখল, তাতে সে প্রায় উলটে পড়ে গেল
ঔরঙ্গজেব ও ছত্রপতি শিবাজি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলছেন
টুনটুনি একবার নিজের গায়ে চিমটি কাটল নাহ, সে জেগেই আছে, কারণ তার বেশ জোরে লাগল তবে? সে তো নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না! ইস, বন্ধুরা শুনলে যা হিংসা হবে! ভাবতেই হাসি পাচ্ছে কিন্তু ফিরতে পারলে তবেই তো বলবে! সে তো এখন ভেবেই পাচ্ছে না কী করে এখানে এল
কিছুক্ষণ পরে লোকজনেরা ফিরতে লাগল টুনটুনি অন্ধকারের মধ্যে দিয়েই হুড়মুড় করে ছুটতে লাগল তারপর যে বাড়িতে ছিল, সেখানে কেউ নেই দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ঘরে ঢুকে পড়ল তারপর নিজের ঘরে ঢুকে অপেক্ষা করতে লাগল
একটু পরেই গলা শোনা গেল নিশ্চয়ই বাড়ির মালিকেরা ফিরে এসেছে টুনটুনি চুপ করে শুয়ে রইল কিছু পরে যুবতীটি এসে তার পাশে বসে বলল, “তা তোমার নাম কী?”
টুনটুনি বলল, “চন্দ্রিমা তোমার?”
যুবতী বলল, “রোহিনী আমার সঙ্গে যে ছিল, সে আমার দাদা, দমন সে শিবাজি মহারাজের সৈন্যদলের সদস্য আমি মহারানি পুতলাবাঈ-এর দাসী
টুনটুনি বলল, “আমার মনে হয়, এবার সত্যি কথাটা বলে ফেলি
রোহিনী বলল, “কীসের সত্যি?”
টুনটুনি বলল, “আমি ভবিষ্যতকাল থেকে আসছি
রোহিনী অবাক হয়ে গেল বলল, “মানে?”
টুনটুনি বলল, “মানে এই যে তোমাদের রাজা, শিবাজি, আর সম্রাট ঔরঙ্গজেব, তাঁরা আমাদের সময় ইতিহাস হয়ে গেছেন
রোহিনী চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, “মানে তুমি তাঁদের কথা জানো?”
টুনটুনি হেসে বলল, “আমাদের পড়তে হয়েছে এঁদের ব্যাপারে
রোহিনী বলল, “তাই তোমার জামাকাপড় কেমন যেন অদ্ভুত লাগছিল কিন্তু তোমার মা-বাবা চিন্তা করছে না? তোমায় খুঁজছে না?”
টুনটুনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “খুঁজলে কী পাবে? আমি তো নিজেই বুঝে পাচ্ছি না কীভাবে ফিরব
রোহিনী বলল, “তুমি এলে কী করে?”
টুনটুনি মাথা নেড়ে বলল, “জানি না কী হয়েছিল আসলে,” সে এবার বেছে বেছে কথা বলতে থাকল, যাতে রোহিনী বুঝতে পারে, “আমি পড়তে গেছিলাম, তারপর ফিরে এসে যেই একটু বিশ্রাম নিতে বসেছি, অমনি কী হল কে জানে, ঘরময় একটা অদ্ভুত আলোয় ভরে গেল, তারপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম যখন জ্ঞান ফিরল, তখন আমি এখানে তারপর তো তুমি জানো যে কী হয়েছিল
রোহিনী বলল, “তাহলে তুমি ফিরবে কী করে?”
টুনটুনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “সেটাই ভাবছি
রোহিনী চুপ করে কী যেন ভাবল তারপর বলল, “আমি একটা জায়গার কথা জানি লোকে বলে সেই জায়গাটা নাকি জাদুর জায়গা সে জায়গাটি পাহাড়ের মধ্যে একটা গুহা মাঝে মাঝে আমার ভাইকে ওখানে যেতে হয়, মহারাজের পুরীতে যদি কিছু ঘটে হয়তো তুমি সেখানে গেলে নিজের সময়ে ফিরে যেতে পারবে
টুনটুনির মুখ ঝলমল করে উঠল সোল্লাসে বলে উঠল, “সেখানে তুমি আমায় নিয়ে যেতে পারবে?”
রোহিনী বলল, “যাওয়া যায়, কিন্তু অত্যন্ত দুর্গম পথ সেখানে মহারাজ কাউকে যেতে দেন না
টুনটুনি আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে বলল, “যাঃ, তবে?”
রোহিনী একটু ভেবে বলল, “শুনেছি নাকি যদি খুব দরকার হয়, তখন মহারাজ ওখানে যেতে দেন আমি একবার আমার ভাইয়ের সঙ্গে একটু কথা বলে আসছি দেখি ও কী বলে” এই বলে সে উঠে গেল
কিছুক্ষণ পর যখন সে ফিরে এল, তার মুখ ঝলমল করছে সে সানন্দে বলে উঠল, “শুধু রাজি হয়ে গেছে তাই নয়, একটা দারুণ বুদ্ধিও দিয়েছে
টুনটুনি এতক্ষণ চুপ করে শুয়েছিল, ধড়মড়িয়ে উঠে বসে বলল, “কী বুদ্ধি?”
রোহিনী বলল, “আমি আমার ভাইকে ডাকছি, সে বুঝিয়ে দেবে” বলে সে ডাকল, “দমন!”
এক বলিষ্ঠ চেহারার যুবক এসে দাঁড়াল রোহিনী বলল, “এই যে দমন একে কীভাবে নিয়ে যাব আরেকবার বুঝিয়ে দেবে?”
দমন বসে পড়ে বলল, “আমি একটু ভেবে দেখলাম, মহারাজকে যদি বলি যে আমার বোনের এক দুরারোগ্য ব্যাধি হয়েছে যা ডাক্তার-বৈদ্য দিয়ে সারানো যাচ্ছে না, হয়তো তিনি আমায় যেতে দিতে পারেন আমি তাহলে আমাদের ঘোড়ার গাড়িতে করে তোমাকে ও রোহিনীকে নিয়ে নেব তুমি থাকবে ছদ্মবেশে যদিও আমি একটা রাস্তা জানি যেটা লোকচক্ষুর আড়ালে, তবুও সাবধান থাকা ভালো
টুনটুনি খুশি হয়ে বলল, “রাজি কিন্তু কী ছদ্মবেশে যাব?”
দমন বলল, “তোমাকে শাল দিয়ে জড়িয়ে রাখব, যাতে মনে হয় যে তুমি একটা গোটানো মাদুর ভয় পেও না,” টুনটুনির ভয়ার্ত মুখ দেখে সে তাড়াতাড়ি বলল, “তোমার মুখটা খোলা রাখব
টুনটুনি বলল, “কিন্তু যদি কেউ বুঝতে পারে যে মাদুর নয়, একটা মানুষ রয়েছে?”
দমন বলল, “কিচ্ছু হবে না, রোহিনী আছে, সে তোমায় দেখবে
কিছুক্ষণ ইতস্তত করার পর রাজি হয়ে গেল টুনটুনি। বাড়ির জন্য মনটা এত ছটফট করছে, সেখানে ফেরার এই সুবর্ণ সুযোগ কী করে সে ছেড়ে দিতে পারে?
সেইমতো পরের দিন দমন রাজার কাছে অনুমতি নিতে গেল কিছুক্ষণ পর সে যখন ফিরে এল, তখন তার মুখ আনন্দে ঝলমল করছে সে বলল, “চলো, তাড়াতাড়ি গাড়িতে চড়ি!”
রোহিনী বলল, “রাজি হয়ে গেছে?”
দমন বলল, “অবশ্যই চন্দ্রিমা, এসো, তোমায় জড়িয়ে দিই
আরও কিছুক্ষণ পর রোহিনী গাড়ির ভিতর শুয়ে পড়ল তার ঠিক পাশে টুনটুনি শাল জড়িয়ে শুয়ে পড়ল তার চারপাশে আরও কিছু মাদুর রেখে দেওয়া হল দমন সামনে বসে ঘোড়াটিকে চালিয়ে যেতে লাগল
প্রায় দু-ঘণ্টা ধরে পাহাড়ি রাস্তায় যাবার পর একটা বিরাট গুহার সামনে এসে গাড়িটা থামল রোহিনী ও টুনটুনি অঘোরে ঘুমোচ্ছিল দমন ডাকল, “উঠে পড়ো! আমরা গন্তব্যে পৌঁছে গেছি
রোহিনী ধড়মড়িয়ে উঠে বসে বলল, “হ্যাঁ, এসে গেছি?! চন্দ্রিমা, এসো, তাড়াতাড়ি!”
টুনটুনি গায়ের শালগুলো খুলে নিজের কোটখানা পরে নিল তারপর ঘোড়ার গাড়ি থেকে তিনজনেই নেমে পড়ল দমন তারপর গাড়িটাকে এক গোপন জায়গায় রেখে দিয়ে ঘোড়াটাকে সঙ্গে নিয়ে চলতে লাগল যেতে যেতে বলল, “এ জায়গাটা বেশ ভয়ংকর। আগের বার যখন এসেছিলাম, তখন প্রচুর বিপদে পড়তে হয়েছিল প্রায় সাতজন মিলে এসেছিলাম, মাত্র দুজন ফিরতে পেরেছিলাম বাকিরা নানারকম বিপদে পড়েছিল, আমরা বাঁচাতে পারিনি তাই এবার একটু সাবধান হতে হবে
টুনটুনি বলল, “শোনো, যদি কারোর কিছু ক্ষতি হয়, আমায় দোষ দিও
দমন ও রোহিনী তার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারল না শুধু ঘাড় নাড়ল
তিনজনে এগিয়ে চলল হঠাৎ দেখতে পেল যে সামনে দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলছে দমন সভয়ে বলল, “হায় রে!”
টুনটুনি চিত্‍কার করে উঠল, “এবার কী করে যাব?”
রোহিনী বলল, “ভাই, তোমার ঘোড়া!”
দমন একটানে রোহিনী ও টুনটুনিকে ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে নিয়ে নিজেও চাপল তারপর ঘোড়া অনেকটা উঁচুতে লাফ মারল তিনজনে শক্ত করে ধরে রইল বহু কষ্টে অন্যধারে পড়তেই হুড়মুড় করে জলের তোড় এসে ঘোড়াটাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল দমন তাকে ধরতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেল রোহিনী ভেসে যাচ্ছিল, চিত্‍কার করে উঠল, “ভাই রে!!!” সঙ্গে সঙ্গে টুনটুনি হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলল তারপর একটা শুকনো জায়গার খোঁজ করতে লাগল পিছন থেকে দমন চেঁচিয়ে উঠল, “রাস্তা খুঁজে পেয়েছি! আমার হাত ধরো!” তিনজনে মিলে ভয়ংকর স্রোতের মধ্যে দিয়ে কোনোমতে একটা ছোট্ট গর্তের মধ্যে ঢুকে পড়ল তারপর হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে চলে এল এক বিরাট ঘরে ঢুকেই হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল
ঘরের একটা দেয়ালের সামনে সাতখানা পাথর মালার মতো ভাসছে তারা এগোতে গেল, কিন্তু কী যেন দমন ও রোহিনীকে আটকে দিল টুনটুনি দু-পা এগিয়ে যেতেই কে যেন বলে উঠল, “চন্দ্রিমা ঘোষাল!”
টুনটুনি ভয়ে দু-পা পিছিয়ে গেল সেই রহস্যময় গলা পরিষ্কার বাংলায় বলল, “আমি জানি তুমি কেন এখানে এসেছ আমাদেরকে ক্ষমা করো তোমাকে নয়, অন্য একজনকে এখানে আনার কথা ছিল তুমি এগিয়ে যাও গিয়ে কমলা পাথরটিকে ছোঁবে তাহলে তোমার গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাবে
তারপর পরিষ্কার মারাঠিতে বলল, “আমি জানি তোমাদের খারাপ লাগছে কিন্তু ভয় নেই, আরেক সঙ্গী তোমাদের সঙ্গে যোগদান করবে যুদ্ধে আর এও জেনে রেখো, তোমাদের ঘোড়া বেঁচে আছে
টুনটুনি হাসিমুখে দুই ভাইবোনের দিকে তাকিয়ে বলল, “বিদায় বন্ধু
তারাও বিদায় জানাল রোহিনী বলল, “সুযোগ পেলে আবার এসো তোমার জন্য অপেক্ষা করব
টুনটুনি এগিয়ে গিয়ে কমলা পাথরটিকে ছুঁতেই এক অদ্ভুত আলোয় গোটা ঘর ভরে গেল সে আবার অজ্ঞান হয়ে গেল
আর সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে সে ধড়মড়িয়ে উঠে বসে দেখতে পেল যে তার হাতে মার্ভেলের জীবন মণির প্রতিকৃতি শক্ত করে ধরা পাশে দাঁড়িয়ে আছে ময়না ময়না বলল, “এই ওঠ রে, পরীক্ষা শেষ হবার পর যে বেড়াতে যাবার কথা ছিল, রেডি হবি না?”
টুনটুনি আস্তে আস্তে উঠে বসল হাতে জীবন মণিটা লক্ষ করে ময়না বলল, “ব্যাপারটা কী তোর? তখন থেকে শুনছি তুই ঘুমের ঘোরে বকবক করছিস, তারপর স্টোনটা শক্ত করে ধরে আছিস, হয়েছে কী?”
টুনটুনি চোখ কচলে বলল, “স্বপ্ন দেখছিলাম
ময়না বলল, “ও, আচ্ছা তা, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে, ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বেরোব
টুনটুনি একবার মাথা নেড়ে বোঝাল যে সে বুঝতে পেরেছে তারপর ময়না বেরিয়ে যেতেই সে গিয়ে জামা বদলে নিয়ে একদম ফিটফাট হয়ে নিচে চলে গেল
আরও কিছুক্ষণ পর টুনটুনি ও তার বন্ধুরা চড়ুইয়ের দাদার গাড়িতে করে বেরিয়ে পড়ল যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটা গাছ ছিল তাদের মধ্যে সেই দুই মারাঠি ভাইবোন, রোহিনী ও দমন, তাদেরকে টুনটুনি কোনোভাবে দেখতে পেয়েছিল কিনা তা সে বলতে পারেনি, কিন্তু অমনই দুজনকে সে লক্ষ করেছিল তাহলে ঐ ঘটনাটা যেমন স্বপ্ন ছিল, এটাও কি স্বপ্ন? নাকি শুধুই চোখের ধাঁধাঁ?
----------
ছবি - মেটা এআই

No comments:

Post a Comment